Club Activities · Life View

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বসন্ত উৎসব: নিজেকে আবিষ্কারের আরেক বসন্ত

খুব যে বই পাগল ছিলাম সেটা বলবনা। তবে পড়তাম। যেটা পেতাম সামনে সময় সুযোগ পেলেই পড়তাম। ২০১৫ সালের দিকে অনি ভাইকে দেখতাম প্রায়ই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। তখন আমি মাঝে মাঝেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কাজে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যেতাম। একদিন শিবলী ভাইকে খুঁজতে এসে দেখি সেখানকার বিশলা লাইব্রেরিতে ভাই একা একাই বই দেখছেন। আমিও যেন মুহুর্তে হারিয়ে গেছিলাম বইয়ের সেই রাজ্যে। সেদিন গোটা লাইব্রেরি হাঁটতে গিয়ে নিজেকে হঠাৎ করেই শুন্য মনে হয়েছিল। এটা ভেবেই আফসোস করছিলাম যে বিশাল একটা জগৎ এখনো আমার থেকে আড়ালে ছিল। এরপর অনেক স্যারের বক্তব্যে শুনেছি তারা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়েছেন। মাঝে মাঝে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ভাষণ গুলি শুনেই আসলে নিজেকে চিনে নেওয়ার এক নতুন পৃথিবী তৈরি হত আমার মাঝে।

এভাবেই পরিচয় শুরু হয় আমার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সাথে । অনি ভাইকে তখন বলে রেখে ছিলাম বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরবর্তী কার্যক্রমের সময় জানাতে। কিন্তু ভাই মনে হয় আমার কথা ভুলেই গেলেন। কলেজ ভর্তির মহাযুদ্ধ সমাপ্তির পর যখন হাফ ছেড়ে প্রায় শান্ত হচ্ছিলাম তখন ফেসবুকের ইভেন্টে চোখে পড়ল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কলেজ কর্মসূচীর। কি জানি কি মনে হল জানিনা। কয়েক সপ্তাহের মাথায় গিয়ে নিবন্ধন করালাম। গিয়ে দেখি আমার আগে মাত্র তিন জন করেছে। ভেবেছিলাম তেমন কেউই তাহলে আসবেনা। যাই হোক , এর মাঝে মেজ আপার বাবু হল। যেদিন ডেলিভারির ব্যাস্ততা নিয়ে আমি হসপিটালে দৌড়াচ্ছি সেদিন ছিল কলেজ কর্মসুচীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান। তাই আর যাওয়া হল না। তার ভেতরে আপুর এলএলবি ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা চলে। প্রতি শুক্রবার যখন আপুর পরীক্ষা তখন আর আমার সুযোগ হয়না কলেজ কর্মসুচীর ক্লাসে যাওয়ার। তাই প্রায় প্রথম দুই মাস ক্লাসে যাওয়া হয়না আমার। রামিসাকে দেখতাম নিয়মিত যেতে। ওর সাথে আগেই টুকটাক পরিচয় ছিল। ওকে বলতাম আমার বই সংগ্রহ করে দিতে। কিন্তু ফাজিলটা কোনদিনই দেয়নি। যাই হোক, এভাবে নানা কারণে ক্লাস মিস হতে থাকলেও সবাই যখসন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে গেল এবার আর থাকতে পারছিলাম না। তবে এবার নিজেই নিজেকে আটকালাম। কারণ চিনিনাতো কাউকেই। একা একা গিয়েকি আর ঘুরা হবে। তাই সেবার অজুহাত দাড়া করিয়ে বাদ দিলাম যাওয়া।

শেষমেশ এরপর থেকে নিয়মিত ক্লাস করা শুরু করি। প্রথম দিনেই ‘কৃঞ্চকানন্তের উইল’ পড়ে যাই ফেসবুক থেকে পিডিএফ নামিয়। রামিসা আমায় বলে দেয় আমি যেন সুন্দর ডায়রী আনি। আসার আগের সন্ধ্যায় আমি প্রায় এক ঘন্টা ধরে বোঝার চেষ্টা করি সুন্দর ডায়রী কাহাকে বলে!! রামিসাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে আমায় তার ‘সুন্দর ডায়রী’র ছবি পাঠায়। আমি বুঝলাম, যে নাহ আমার ডায়রী আমার মতই অগোছালো থাকুক। রাত চারটা নাগাদ বই শেষ করে বসলাম ডায়রী লিখতে। সকাল আটটা পর্যন্ত ডায়রী লিখেই আমি ঘুম। কিন্তু ফোনের রিপিট এলার্ম সে শান্তি আর দিয়েছিলনা। যাই হোক, দৈব বলে আমি গেলাম কলেজ কর্মসুচীর প্রথম ক্লাসে।

ক্লাসে ঢুকেতো আমি পুরোই অবাক। এতগুলো ছেলেমেয়ে এত শান্ত কেন? এরা কি হইচই করতে পারেনা। মনে হয় সবাই বই নিয়ে খুব সিরিয়াস। তাই এমন গম্ভীর ভাব সবার। সামনে চেয়ারে অভিধানের মত একটা মানুষ বসে আছে। (আমি হারুন ভাইকে মোটেও মোটা বলি নাই। অভিধানের মতই লাগছিল তাকে।) পরে জানতে পারলাম সে এখানকার অভিধান না হলেও সংবিধানের সহকারী গ্রন্থ বটে। তার নাম হারুন। সবাই ডাকছে হারুন ভাই। সেদিন ক্লাস ছিল বিশ্বজ্যিৎঘোষ স্যারের। স্যারের সাথে সাথে আসছ মাঝারি আকৃতির আরেকজন ব্যক্তি। সুমন ভাই নামেই খ্যত তিনি। তার চশমাটা দেখে টিভিতে দেখা ‘স্বচ্ছ ভারত’ এর টিভিসি এর গান্ধির চশমার কথা মনে পরে যায় আমার। যাই হোক, সুমন ভাই যথারীতি নিয়মিত আমাদের মাঝে ‘স্বচ্ছ বিসাকে’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে লাগলেন।

বই নিয়ে কথা বলতে ডাকায় দেখলাম কেউ কেউ যেন খুবই উৎসুক। আবার কেউ যেন পারলে হামাগুড়ি দিয়ে চেয়ারের পেছনে পালাতে চায়। তবে নিজেকে এই অবস্থায় বেশ ভালই লাগছিল। কারণ বরাবরই মানুষের সামনে বয়ান দিতে আমি অভ্যস্থ। তন্ময়কে দেখলাম বেশ আসর মাতিয়ে কথা বলতে। আবীরতো আরও কয়েকধাপ সামনে। আমি স্টেজে উঠে কি বলেছিলাম আল্লাহ মালুম। সবশেষে অথই এসে সবাইকে থমকে দিয়ে এগিয়ে গেল উল্কা বেগে। বুঝলাম যে আপা এক্সপার্ট। তবে বিশ্বজিৎ স্যারের বক্তব্য শুনে বুঝলাম সাহিত্য বোঝার মত বাচ্চাছেলে আমি এখনও হয়ে উঠতে পারিনি। সেদিনের ক্লাসের পর রামিসা ছাড়া আর কারও সাথে আলাপ হয়ে ওঠেনা। তবে মোটামুটি ধারনা পাই সবার ব্যাপারেই।

সাপ্তাহিক ক্লাসের পর আমাদের উল্লাস
সাপ্তাহিক ক্লাসের পর আমাদের উল্লাস

এরপরের ক্লাস ছিল আব্দুর নূর তুষার স্যারের সাথে। স্যারের সাথে আগেও একটা অনুষ্ঠানে আলাপ হয়েছিল। তবে সবাই যখন একই কথা বলছিল তখন বুঝলাম যে এই অভিজ্ঞতায় আমি নগন্য। উচ্চারণ নিয়ে সেবার বেশ ভালই স্যার সবাইকে ধরলেন। সেদিনের ক্লাসের পর প্রথম কথা ওঠে নামকরণ অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানের থিম হবে বসন্ত। সুমন ভাই সবাইকে বললেন কে কি করতে চায় সেটার তালিকা জমা দিতে। শুরু হল বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বসন্তবরণ উৎসবের প্রস্তুতি পর্ব। আমার জন্য সবার সাথে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ।

জীবনে কখনো দুইটা জিনিস আমি করে উঠতে পারিনি। নাচ আর গান। তবে এবার যখন সুমনভাই বলে গেল যারা পারেনা তাদেরকেও শিখিয়ে দেওয়া হবে। তখন মনে হল একবার চেষ্টা করতে দোষ কি। তবে এগিয়ে গিয়ে যখন দেখি এখানে শিল্পীর অভাব নেই তখন আপন পরান বাঁচানোর তাগিদেই চুপচাপ হয়ে যাই। তাই উৎসবে যোগ দেওয়ার নতুন উপায় দাড়া করালাম ব্যবস্থাপনা দলে থাকার।

সুমনভাই আমাদের সবাইকে বলেন অনুষ্ঠানে কি কি গান, কবিতা করা যায় সেটার তালিকা বানাতে। আমি সেখান থেকে কাজ লুফে নিলাম। অনলাইন ডকে প্রথম বানিয়ে দিলাম গান আর কবিতার তালিকা। যদিও সেগুলি সংগ্রহ ছিল রামিসার। সুমন ভাই অবশ্য এ কাজে ভেটো দিলেন। এরপর আরও কয়েকটা ক্লাস ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে উৎসবের আয়োজন।

রিহার্সেলের প্রথম দিন
রিহার্সেলের প্রথম দিন

নিজেদের শিল্পের কদর বুঝতে পেরে আমি আর তন্ময় মিলে চেষ্টা করি কামলা খাটার দল গঠনের। প্রথম কাজ ছিল ছেলেদের জন্য পাঞ্জাবি দেখতে যাওয়া। উৎস আর রেদওয়ান একবার গিয়ে দেখে আসলেও মনের সাধ মিটাতে আবারও গেলাম আমি আর তন্ময়। আমাদেরকে গাইড দিতে সাথে এল রেদওয়ান। সেদিন মনে হয় নিউমার্কেটের সব পাঞ্জাবির দোকানদার আমাদের বকবক শুনছিল। যাই হোক, পাঞ্জাবি দেখার থেকেও বেশি মাত্রায় বক বক করতে দক্ষ ছিলাম আমরা। ওভার ব্রীজের উপর দাড়িয়ে ভুত-ভবিষ্যতের নানা ধ্যান-ধারণা নিয়ে আমাদের সেই আলাপচারিতা সম্পূর্ণ লিখতে পারলে সেটা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে বই আকারে প্রকাশ করত কিনা বলা মুশকিল। তবে সেদিন রেদওয়ানকে অচেনা গলিতে (আমাদেরও অচেনা ছিল) ঢুকিয়ে সহজ রাস্তায় পৌছানোর ভেতর যেন গুপ্তধন পাওয়ার মত সাফল্য ছিল আমার আর তন্ময়ের কাছে। সে যাই হোক, কাজ কম হলেও সেদিনের পর নতুন দুটি বন্ধুর হাত আমি পেয়েছিলম আমার পাশে।

এরপর আবার সচারচর ক্লাস। কোন এক ক্লাসের দিনে আবীর আর হাবিবের জন্মদিন ছিল। আমি আবার ঐদিন গণিত অলিম্পিয়াডের ঢাকা অঞ্চলের পরীক্ষার জন্য ক্লাসে আসতে পারিনি। তবে শেষ বেলায় কেন্দ্রের ছাদে এসে দেখি বিশাল আয়োজন। কেক এনে, মোমবাতি জ্বালিয়ে এক বিশাল আয়োজন। যদিও এই আয়োজন গ্রুপ চ্যাটে রাত্রির ভুল ম্যাসেজ থেকে আবীর জেনে যায়। কিন্তু হাবিব সেদিন রীতিমত চমকে গেছিল। বাসে বার বার কথা বলার সময় ওর ভাষা জড়িয়ে যাচ্ছিল। সেদিন আমি খুব বেশি করে বুঝতে পারি যে বন্ধুত্বের বন্ধনটা আসলে কথা হৃদয়স্পর্শী।

প্রতিসপ্তাহের বইগুলির মাঝে কখনো থাকতো প্রেমে ভরা উপন্যাস, কখনো হাসির খোরাকের ভান্ডার আবার কখনও দুর্বোদ্ধ (অন্তত আমার কাছে) ইতিহাস। যেটার আগামাথা উদ্ধার করতে ভালই বেগ পেতে হত আমাদের। এমনই একদিন ছিল আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ক্লাসের দিন। সেদিন ছিল ‘প্লেটোর সংলাপ’ বইটির উপরে ক্লাস। কোনমতে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে বইটা একটু পড়ে গেলাম ক্লাসে। ৩০/৪০ জনের ক্লাসে সেদিন পড়ে এসছিলাম মনে হয় মাত্র দশ/পনের জন। স্যার একটু রাগই করলেন। আরও যেন তার সাথে যোগ হল ডায়রী না লেখার অভিযোগ। তবে সব মিলিয়েও সেদিন অবাক হয়েছিলাম স্যারের কথা শুনে। তার প্রতিটি কথা যেন মনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছে যায় আলোক মশালের মতই।

প্রথম বসন্তে কেন্দ্রের ছাদে
প্রথম বসন্তে কেন্দ্রের ছাদে

এরপর দিন পার হতে লাগল। আমার কামলা দলে যোগ দিল তাহমিদ আর রাহাত। অন্যদিকে তন্ময়কে দেখলাম ঠিক গানের দলে ঢুকে যেতে। মনে হয় ছেলেটার সঙ্গীত প্রেম ফিরে এল আবার। তবে আমি আর কেন যেন আগ্রহ ফিরে পেলাম নাহ। সে যাই হোক, প্রতি সপ্তাহে ক্লাসের পরে দেখতাম অথই, রাত্রি সহ আরও মেয়েরা হাত-পা ছুড়ে কেন্দ্রে ভূমিকম্প সৃষ্টির বৃথা চেষ্টা করে যেত। অন্যদিকে গানের দুই দল নানা রকম বিচিত্র সুরে গান করত। যেখানে কেউ যেন শান্ত শ্যামা গায়, কেউ ব্যান্ডের হাসান হওয়ার চেষ্টা চালায়। আবার কেউ কেউ যেন অস্কার প্রাপ্ত শিল্পীদের হার মানায়। সে এক বিচিত্র অনুভুতি। মাঝ দিয়ে আমরা কামলা দল সেসব বিচিত্র শিল্পের রস আহরণ করতে থাকি নির্দিধায়।

ছেলেদের পাঞ্জাবি নিয়ে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি আমাকে। কারণ সেটার বেশিভাগ কাজ সামলেছে রেদওয়ান। প্রথম আনা কয়েকটা স্যাম্পলের ছবির ভেতরে সুমনভাই পছন্দ করলেন কমলা ধরণের একটা পাঞ্জাবি। তবে সেটার থেকে আমাদের সবার মন কেড়েছিল হালকা হলুদের একটা পাঞ্জাবি। সেটা নিয়েও মহাবিপদ। কারণ সেটার রং কারও ফোনের ক্যামেরাতে আসেনা। তাই স্যাম্পল হিসাবে ছবির বদলে পাঞ্জাবি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হল শেষ দিকে। তবে মেয়েদের শাড়ি নিয়ে বেশ খাটাখাটি গেছে গোটা লিডার্স দলের।

কেনাকাটায় নিউমার্কেটে আয়োজক দল
কেনাকাটায় নিউমার্কেটে আয়োজক দল

একদিন ক্লাসের পর অথই বলল,‘চল সবাই মিলে শাড়ি দেখে আসি।’ আমরা ছেলেরা ভাবলাম মন্দ কি? একটু না হয় ঢাকা শহর চষে আসাই হল। তবে কে জানত যে অথইয়ের বাধা দড়িতে গরু হয়ে এ শহর চষা ইয়ামপসিবল.. হাহাহা.. গোটা আজীজ সুপার মার্কেটের আনাচকানাচে (আমি নিশ্চিত সুযোগ থাকলে অথই দোকানগুলোর বায়িং হাউজে চলে যেত) শাড়ি দেখে বেরাল ও। কিন্তু দিন শেষে তার একটি শাড়িও পছন্দ হয়না। সবগুলির কোন না কোন খুত চোখে পরে তার। সবাই দুপুরের খাওয়া আজিজ সুপার মার্কেটে সেরে নিলেও আমার আর তন্ময়ের কাছে আসার আগেই দোকানদারের পাতিল শুন্য হয়ে যায়। শেষমেশ সিদ্ধান্ত হল, যে আমরা নিউমার্কেটে গিয়ে খাব। তবে বেশ আগেভাগেই বোঝা যাচ্ছিল যে আমাদের সে গুড়ে বালি দিতে প্রস্তুত আছে গোটা দল। এরপর নিউমার্কেটে যাওয়ার পালা। আমরা ছেলেরা গেলাম পাঞ্জাবির স্যাম্পল আনতে। আর মেয়েরা??? হাহাহাহাহা… ওরাতো যেন শাড়ির রাজ্যে হারিয়ে গেল। অবশেষে আমি, রামিসা আর রাত্রি ফিরলাম একসাথে। দিনশেষে, মেয়েদের শাড়ি পছন্দের ফলাফল শুন্য।

এভাবে ঘোরাঘুরি করতে করতে চলে এল একুশে ফেব্রুয়ারি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হয়ে সেদিন প্রথম বারের মত আমি গিয়েছিলাম জাতীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে। সেদিন আমার অভিজ্ঞতা নিয়ে করা লেখাটা দেখা যাবে এখানে। আবীরের সাথে রামিসার কথা ছিল কবিতা আবৃত্তি করার। তবে আবীরের থাকার নিশ্চয়তা না থাকায় রামিসা আমাকে করতে বলল। আমি ভাবলাম, ‘যাক, কামলা থেকে একটু শিল্পী হওয়ার সুযোগ আমি আর হাতছাড়া করি কেন।’ সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ আবৃত্তি অনুশীলন করার চেষ্টা করছিলাম।

কবিতা আবৃত্তি অনুশীলন করাচ্ছেন নুর ভাইয়া
কবিতা আবৃত্তি অনুশীলন করাচ্ছেন নুর ভাইয়া

প্রথমদিন নূর ভাই খুব বেশি ভুল বের করেনি। তাকে দেখে মনে হয়েছিল সেই গল্পের সন্দেশের কোন এক শহর থেকে এসছে। বুড়ির চুলের মত ফিনফিনে সাদা-কাল চুল মাথার মাঝ বরাবর ভাগ হয়ে ছড়িয়ে পরেছে। সবার আগে নজরে পরত তার গলার মালা। শুনেছিলাম এটা তার নিজের হাতে বানানো। আর মাঝে মাঝেই নস্যির অভ্যাসটাও বেশ আছে তার। তবে ক্রমে যেন বুঝলাম ভাই ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন। কবিতায় আমি যখন গান না করতে পারার সেই আবেগঘন টান দিচ্ছিলাম তখন ‘হে কবি’ আর নীরব থাকতে পারেনি বলেই আমার বিশ্বাস। ফলাফল স্বরুপ কবে যেন সেটা ‘হে হারুন’ য়েও বদলে গিয়েছিল। তবে ভাইয়া, প্রচন্ড ধৈর্য্য ধরে শেখাচ্ছিলেন। তার ভেতরে ‘কয়লার ময়লা’ থেকে ‘টানের জাদুকর’ সহ আরও নানা রকম বিশেষ বিশেষণে বিশেষায়িত হয়েছিলাম আমি।

নুর ভাই এবার শুরু করেন তার কোরাসের অনুশীলন। প্রথম দিকে কোরাসের কবিতার অংশ আমাদের কন্ঠে এতই মধুর শোনাচ্ছিল যে ভাইয়া একটু পর পর গর্জে উঠছিলেন। শিল্প জগতে এবার পদার্পন ঘটল তাহমিদের। সেও যোগ দিল আমাদের সাথে। এহতেশামও এগিয়েছিল বেশ আত্নবিশ্বাস নিয়ে। আমি, রামিসা, উৎস, তাহমিদ, এহতেশাম আর খাদিজা আপুকে নিয়ে ভাইয়া বানালেন কোরাসের কবিতার দল। আর অন্যদিকে সুমাইয়া আপু প্রস্তুত করছিল গানের দলকে।

অনুশীলনের মাঝে জমপেশ আড্ডা
অনুশীলনের মাঝে জমপেশ আড্ডা

রিহার্সেলের প্রতিটি দিন ছিল অসাধারণ। দুপুরে ছাদে খেতে গেলে আমাদের আড্ডার যেন কোন সীমানা ছিলনা। সেখানে জাপানি আপু থেকে শুরু করে অবন্তী, ঐশী সবার সাথে আলাপ জমে ওঠে আমার। মরিচের নানা আকৃতির গবেষান থেকে শুরু করে জাপানি আপুর কেন শিরা দেখা যায় সেটাও বাদ পরেনা আলোচনা থেকে। তারই মাঝে একদিন সুমন ভাই নিজে হাতে আমাদের রান্না করে খাওয়ার বিসাকের ছাদে। তন্ময় বরাবরের মত দিনের আকাশে তারা খুঁজতে গিয়ে লুটিয়ে পরে ছাদের মেঝের কোলে। জাপানি আপু তার জাপান ভ্রমণের ইতিবৃত্তান্ত খুলে বলে আমাদের কাছে। সব মিলিয়ে অসাধারণ সুন্দর কিছু সময়ের স্মৃতি গেথে আছে আমার মনে।

বসন্ত উৎসবের দিন আরও এগিয়ে আসতে লাগল। প্রতি সপ্তাহে রিহার্সেল চলে। মাঝে মাঝে সপ্তাহের অন্যদিনেও রিহার্সেল চলতে থাকে। রামিসা আর আবীর শুরু করে তাদের দেওয়াল পত্রিকার কাজ। আর এদিকে আমি সামলাচ্ছিলাম সব অনলাইনে ফর্ম বানানো (যদিও সেটা খুব ফলপ্রসুভাবে আমরা ব্যবহার করতে পারিনি), গ্রুপে পোস্ট দেওয়া, লিস্ট আপডেট করা সহ ছোটখাট কাজগুলি। এরই মাঝে আরেকদিন যেতে হয় মেয়েদের শাড়ি বাছাই করতে। মাত্র চার ঘন্টা ব্যায় করে সুমাইয়া আপুর সাহায্যে ব্লক প্রিন্টের শাড়ির অর্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু অর্ডার দেওয়া হয়না তখন। কারণ কারও কাছেই অ্যাডভান্সড করার মত টাকা ছিল না। কিন্তু সেদিন নিউমার্কেটে আমাদের ছেলেদের আড্ডা ছিলা মনে রাখার মত। আমাদের বাদরামি আর দুষ্টামির চরম মাত্রাও হাসিমুখে সহ্য করে নেয় আপু। রামিসা যদিও শেষ সময়ে চেষ্টা করছিল আড্ডায় যোগ দেওয়ার। তবে শেষ সময়ের ব্যস্ততা তাকে আর সুযোগ দেয়না।

বেজান শহরের কোরাসের সর্বশেষ অনুশীলন
বেজান শহরের কোরাসের সর্বশেষ অনুশীলন

এবার দিনগুলি যেন দ্রত যাওয়া শুরু করে। শেষ রিহার্সেলের দিন নূর ভাইয়া সবাইকে বলে দেয় যে আজ ভুল করলেই বাদ দেবেন। এহতেশাম বাদ পরে সেদিন। আমি আর খাদিজা আপু কোনমতে ‘আবার পায়রা’ আর ‘আবার দানা’ ভুল কাটিয়ে টিকে যাই। তবে একটু ভুল তো থেকেই যাচ্ছিল। অন্যদিকে রামিসা আর আবীরের দেয়ালিকা প্রায় শেষের পথে। বাউল আঁকতে গিয়ে অথইকে নানা কায়দায় আঁকাআকি করতে দেখা যায়। ঋতু, প্রমি সহ দলের আরও অনেকে মিলে বানিয়ে ফেলে চমৎকার একটি দেয়ালিকা।

শেষ সপ্তাহের সবচেয়ে বড় কাজ ছিল ব্যাচের নামকরণ। দাঁত ভাঙা সব নামকে পিছনে ফেলে হাবীব আর অবন্তীর দেওয়া নাম ‘আলোকবর্তিকা’ হয়ে ওঠে আমাদের ৩২ তম ব্যাচের পরিচয়। সেদিনের দুপুরে আমাদেরকে নিজের টিউশনি করা টাকা দিয়ে খাওয়ায় অবন্তী। এ আনন্দ শুধুমাত্র আমরাই বুঝতে পারব। ঐদিন বিকালেই পাঞ্জাবি আর শাড়ির অর্ডার নিশ্চিত করা হয়। এরই মাঝে সুমাইয়া আপু বার বার খাওয়াতে চাইলেও আমরা ভদ্রতা করে বলেছি,‘না থাক আপু। আজ নাহ। আরেকদিন।’ ফলাফলস্বরুপ আপুর বিয়েতে দাওয়াত পাওয়ার সুযোগ নেগেটিভ ডিফারেন্সিয়াল হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন।

উৎসবের আর মাত্র চার/পাঁচ দিন বাকি যখন, তখন আমি গেলাম গায়েব হয়ে। আমার ফোন নষ্ট হল। আমার মডেমও একই সাথে কাজ করা বন্ধ করল। তার উপর অফিসের কাজও একটু বাড়ল। সবমিলিয়ে আমি গায়েব মানে গায়েব। আলাদিনের দৈত্য দিয়ে খুঁজে পাওয়া যেত না আমায়। তবে এই সময়ে সব কাজ সামলে নিয়েছিল রেদওয়ান।

সব বাধা সামলে নেওয়া রেদওয়ান
সব বাধা সামলে নেওয়া রেদওয়ান

পাঞ্জাবির টাকা তোলা, হিসাব রাখা, অর্ডার দেওয়া, পাঞ্জাবি আনা, ছেলেদের হাতে পৌছে দেওয়া সব সামলেছে সে একা হাতে। আমি জানি, আমি ওর জায়গায় থাকলে কখনোই এত সব কাজ একা হাতে এত নিঁখুতভাবে করতে পারতাম না। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক সামাল দিয়েছে অথই আর রামিসা।

এবার যেন আসি আসি করে এসেই গেল ৩ রা মার্চ, ২০১৭। আমাদের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বসন্ত উৎসব। আবীরের কুয়াকাটা ভ্রমণ পেছানোর কারণে উপস্থাপনায় ছেলেদের ভেতর সুযোগ পেল ও। আর মেয়েদের ভেতর প্রমি। ঐদিন সকালে কোচিং শেষ করে বারটার দিকে রওনা দিলাম। রামিসাকে ফোন দিয়ে জানলাম ও কলেজের রিহার্সেলে। এরপর বিসাকে পৌছে দেখি সব ছেলেরা সেই পাঞ্জাবির সাজে। আর মেয়েদেরতো জুড়ি নেই সাজগোজের। বসন্ত এবার না এসে যেন পালাবে কোথায়। লিফটের সামনেই দেখা হয়ে গেল রাত্রির সাথে। দেখে মনে হল বিধ্বস্থ বেজান শহর থেকে যেন উঠে আসা আলুথালু চুলের পথহীন এক বালিকা। অবশেষে জানলাম তার শরীর খারাপ। আমিতো বরাবরের মত পৌছে গেছি কাল ট্রাউজার আর টি-শার্ট পরে।

সুমন ভাই আমাকে দেখেই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন,‘তুমি এই পোশাকে, এই অবস্থায় এখানে কেন?’

আমি আমতা আমতা করে বললাম,‘এইতো ভাই, মাত্র আসলাম। পাঞ্জাবি নেওয়া হয়নি। লাঞ্চের পর নিচ্ছি। খাওয়ার সময় পাঞ্জাবিতে কিছু পরলে নষ্ট হবে।’

আলোকবর্তিকা ব্যাচের দেয়ালিকা - কূজন
আলোকবর্তিকা ব্যাচের দেয়ালিকা – কূজন-

কোনমতে পালালাম ভাইয়ার নজর থেকে। এরপর অবন্তী আর ঐশীর সাথে বসে দুপুরের খাওয়াটা সেরে নিতে নিতেই চলছিল আড্ডা। আমার দেওয়া টিক চিহ্নের ইতিহাস শুধুমাত্র তাদেরই মস্তিষ্কে আছে। খাওয়া শেষ করতেই নিশু আর উৎসও যোগ দিল খাবার টেবিলের আড্ডায়। কিন্তু হারুন ভাই এসে সবাইকে তুলে দিলেন।

যাই হোক, খাওয়া শেষ করে বের হতেই আমার প্রাণপ্রিয় বন্ধুগনেরা আমাকে কিছু দেওয়ার জন্য পথরোধ করে দাড়াল। কারণ তাদেরকে কাজের সাগরে ছেড়ে দিয়ে আমি গায়েব হয়েছিলাম কিনা। এবার অডিটরিয়ামে গিয়ে শেষ সময়ের রিহার্সেলের পালা। আমি আর খাদিজা আপু এখনও ‍ভুল নিয়ে বিশাল সংশয়ে। ভাইয়া তখনও ভুল হলে বাদ দিয়ে দিবে দিবেন অবস্থা। তাহমিদ আর রেদওয়ান ফুল কিনতে গেলেও আমি আর উৎস ফেসে গেলাম এই শেষ সময়ে। তবে শেষ পর্যন্ত নূর ভাই আমাদের সবাইকেই রাখলেন তার কোরাসের দলে।

এরপরের ঘন্টাগুলি গেছে সেদিনে শ্রেষ্ঠ মুহুর্তগুলির স্মৃতি হিসাবে। চৈতির পানির বোতল খালি করে সবাই পানি খেয়ে আমাকেই আবার গিয়ে বোতল ভরে দিতে হয়েছে। তার উপর ছেলেদের বাদরামি। ছবি তোলা.. বেসুরা গলায় গান.. প্রতিটা বিষয় যেন মস্তিষ্কে থেলাসকে পুরো কাঁপিয়ে দিচ্ছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র পরিবারের সবাই মিলে যখন কেন্দ্রের নিচে ছবি তুলতে দাড়াই তখন বুকটা ভরে ওঠে এত বড় একটা পরিবারের সদস্য হতে পেরে।

যথারীতি বিশ মিনিটকে এক ঘন্টা বানিয়ে হাজির হয় লামিছা.. থুক্কু.. রামিসা.. আমাদের রিজভী ভাইয়া। যার স্টেজে আমাকে পেটানোর হুমকীতে শেভ করে, চুল কেটে বোকার মত লাগছিল আমাকে। সে আসার পর শুরু হয় আমাদের ডুয়েট কবিতার চূড়ান্ত অনুশীলন পর্ব। বরাবরের মতই কবিতার মাঝের লাইন ভুলে যাচ্ছিলাম আমি। আর আমার আবেগের টানের পাশাপাশি ওর রোবোটিক আবৃত্তি। তারই মাঝে চলতে থাকে ছবি তোলা। আর তন্ময়, রাহাত আর আমার রাত্রির পাহাড়ি নাচ দেখে পেটে খিল ধরা হাসি।

শুরু হয় উৎসবের মুল আয়োজন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দক্ষিণ ছাদে প্রস্তুত করা হয় মঞ্চ। আমি আর রামিসা কবিতার রিহার্সেল শেষ করে একটু দেরি করেই পৌছে গেলাম ছাদে। শুরু হয় মেয়েদের দলীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে।

এরপর একে একে অথেইয়ের মঞ্চ মাতানো নাচ, ছেলেদের দলীয় গান, কিছু সোলো দিয়ে বেশ এগোচ্ছিল অনুষ্ঠান। এর মধ্যে চলে এল কেক।

ব্যাচের নামকরণ উপলক্ষ্যে কেক কাটছেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার
ব্যাচের নামকরণ উপলক্ষ্যে কেক কাটছেন আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার

৩২ তম ব্যাচের ৩২ পাউন্ডের কেক। আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার কেউ গিয়ে কেক কাটার কথা বললেও স্যার প্রথমে শুনেছিলেন চেক। যাই হোক, স্যার কেক কাটেন নিজে হাতে। ব্যাচের সবার অনুরোধে স্যারও দর্শকসারীতে বসে পড়েন অনুষ্ঠান দেখতে। নূর ভাই এবার উপস্থাপন করেন তার দলকে নিয়ে ‘বেজান শহরের কোরাস’। গোটা দল খুব চমৎকারভাবে উপস্থাপন করে কোরাসটি।

ইতিমধ্যে সূর্য তার লাল আলোর রক্তিম আভা ছড়াতে ছড়াতে হেলে পরে আকাশের পশ্চিম কোণে। দক্ষিণের ছাদে এই রক্তিম আলো যেন সবার মাঝে বসন্তের এই উদ্দীপণাকে আরও নিবিড়ভাবে ছড়িয়ে দেয়। সুরের মুর্ছনায় একের পর এক নানা পরিবেশনে চলতে থাকে সংস্কৃতিক আয়োজন।

মাগরিবের আজানের বিরতির পর আমার আর রামিসার কবিতা আবৃত্তি দিয়ে আবার শুরু হয় অনুষ্ঠানের। আলো আসতে দেরি হলেও দর্শক সারীতে জ্বলে ওঠা মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটগুলি যেন আলোকবর্তিকা জগতের নতুন আলোর উৎস হয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে লোডশেডিং এ সাউন্ড সিস্টেম থেমে গেলেও সবার কন্ঠে বেজে ওঠে একই সুরের গান। আকাশের চাঁদের আলোকে সাথে করে এগিয়ে চলে অনুষ্ঠান। এরই মধ্যে হারুন ভাই বড় আলোর ব্যবস্থা করে ফেলেন। আলো আসার এই বিজ্ঞাপন বিরতিতে আলামিন ভাই তার কৌতুকে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। তারপরেই নূর ভাই শুরু করেন তার সোলো গান।

তার গানেই পুরো আসর মেতে ওঠে। আমাদের অতিথি তবলা বাদক অরণ্য উৎসকে নিয়ে ভাইয়ার গানে নাচতে শুরু করে। এরপর একে একে ৩২ ব্যাচের সবাই উঠে যায় মঞ্চে। নানা ভঙ্গিমায় তাদের নৃত্য যেন এ বসন্তে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে বিসাকের ছাদে। অবশেষে সুমন ভাই আর শাওন ভাইও যোগ দেন আমাদের সাথে। এরপর সুমাইয়া আপুর গান আর নূর ভাইয়ের আরও কিছু পরিবেশনা দিয়ে পর্দা নামে এ অনুষ্ঠানের।

জানি, এর মাঝেও ভাললাগার অনেক স্মৃতির গল্প আমি এখানে তুলে ধরতে পারিনি। তবে যতটুকু পেরেছি তার জন্য আমি ধন্য। হয়তো আরও দশ বছর পর এই অসাধারণ মুহুর্তগুলিকে পুজি করেই জীবনকে এগিয়ে নিতে পারব আরও কয়েক ধাপ সামনে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র একটা বিশাল ভালবাসার পরিবার। বসন্তের সন্ধ্যার এই অনাবিল আনন্দের অসাধারণ স্মৃতির মানুষগুলি বেঁচে থাকুক আরও শত বছর। আলোকবর্তিকার মতই যেন আলোকিত মানুষে গড়ে ওঠে গোটা বিশ্ব।

This slideshow requires JavaScript.

Advertisements

One thought on “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে বসন্ত উৎসব: নিজেকে আবিষ্কারের আরেক বসন্ত

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s