Assignment reports · Journalisms · Science Organizations · Scientific Discussion

তথ্যপ্রযুক্তি পথের আলোকবর্তিকা: আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ আইটি ক্লাব

গত কয়েক দশকে গোটা পৃথিবীর আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশও তার ব্যাতিক্রম নয়। সেই পরিবর্তনের এক নতুন অধ্যায় হল এদেশে গড়ে ওঠা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের আইটি ক্লাব গুলি। দেশের কলেজগুলির ভেতরে সর্বপ্রথম গড়ে ওঠা আইটি ক্লাব হচ্ছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ আইটি ক্লাব। ২০১৪ সাল নাগাদ উচ্চমাধ্যমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাফওয়ান রহমান ও শাহরিয়ার তূর্যের নেতৃত্বে কলেজটির অধ্যাপক ড. জেসমিন আরাকে সাথে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ক্লাবটি।

ক্লাবটির মুল উদ্দেশ্য ছিল সবার মাঝে তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয় নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। সেখান থেকেই তাদের যাত্রা শুরু হয় দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই তথ্যপ্রযুক্তিকে আরও জনপ্রিয়ভাবে তুলে ধরার। দেশের মেয়েদেরকেও তথ্য-প্রযুক্তির এই উত্কর্ষতায় সামিল করার কাজটি সফলতার সাথে করছে আদমজী কলেজ আইটি ক্লাব। তথ্যপ্রযুক্তির এই পৃথিবীতে মেয়েদেরকে তাদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ভার্চুয়াল জগতে তাদের স্বাধীন ও নিরাপদ অবস্থান নিয়েও কাজ করে ক্লাবটি। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই প্রতি সপ্তাহে ক্লাবের সদস্যরা প্রযুক্তির নানা দিক দিয়ে আড্ডা দিতে একত্রিত হন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির নানা রকম সমস্যা ও সমাধান নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা। ক্লাবের বড়রা ছোটদেরকে শিখিয়ে দেয় এসব প্রযুক্তির নানা রকম দিক নিয়ে। তাই এ ক্লাবের সদস্যরা নিয়মিত নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিচ্ছে আগামীর তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবীতে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে।

এছাড়া ২০১৬ সাল থেকেই ক্লাবটি আয়োজন করে আসছে দেশের কলেজ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত সবচেয়ে বড় ও সর্বপ্রথম আইটি কার্নিভাল। যেখানে দিন ব্যাপি সারা দেশ থেকে আসা প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে নানা রকম প্রতিযোগীতায় মেতে ওঠে। যেগুলি তাদের মাঝে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি তারা তাদের সৃজনশীল মেধাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলতে পারে তথ্যপ্রযুক্তির এক নিরাপদ পৃথিবী।

আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ আইটি ক্লাব
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ আইটি ক্লাব

এই ক্লাবটির কাজ যে শুধু নিজেদের মাঝেই সীমাবদ্ধ তা নয়। বরং গোটা কলেজের ফলাফল প্রকাশ, ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রন সহ তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে সব ধরণের কাজেই অবদান রাখছে ক্লাবের সদস্যরা। এ বিষয়ে ক্লাবটির সভাপতি হাসিন ইশরাক রাফি জানান, ‘আমাদের ক্লাবের সদস্যরা শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ শেখে না। কলেজের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষকদের সহায়তায় ক্লাবের সদস্যরাও বাসত্মব জীবনে এমন কাজের সুযোগ পায়। যা ভবিষ্যতে তাদের অভিজ্ঞতাকে আরও বৃদ্ধি করবে।’ এছাড়া এই কলেজটির তথ্যপ্রযুক্তি কার্যক্রম গুগল স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেমের অন্তর্ভূক্ত। যার ব্যবস্থাপনা দলেও রয়েছে আইটি ক্লাব।

আইটি কার্নিভালের সময় গোটা কলেজের শিক্ষকদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে আয়োজক দলে কাজ করে আইটি ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাবটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ হোসেন বলছিলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির জগতে আসলে কোন কাজ একা করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবী। তাই আমাদের ক্লাবে প্রতিটি সদস্যের অবস্থান সমান। কারও তাদের প্রত্যেকই ক্লাবের কাজে সমান অবদান রাখে।’ ভবিষ্যত প্রজন্মের অনেকে এই তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বাসত্মবজীবন থেকে পিছিয়ে পরছে। প্রযুক্তিতে আসক্তির বিষয়টি আগামীতে কিভাবে সামাল দিবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লাবটির গ্রাফিক্স বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুল হক সাদ বলেন, ‘আমরা আমাদের সদস্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেই বাস্তব জীবনের নানা রকম সমস্যতে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাকে কাজে লাগাতে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি আমরা আমাদের নানা রকম সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে পারি তাহলে আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।’

ক্লাবটির শুরু্ন থেকে এখনও মডারেটরের দ্বায়িত্বে আছেন কলেজটির অধ্যাপক ড. জেসমিন আরা। ক্লাবটির আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,‘আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি নতুন প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তির এই মহাযজ্ঞে সামিল করার। কারণ আগামীর পৃথিবীটা গড়েই উঠবে এসব প্রযুক্তিকে নিয়ে। সেই পৃথিবীতে নিজেদেরকে এগিয়ে রাখতে হলে এখনই প্রস্তুতি প্রয়োজন। তাই, আগামীতে আরও বড় পরিসরে আইটি কার্নিভাল আয়োজন করতে চাই। আর নানা রকম শিক্ষামূলক কর্মসূচীর মাধ্যমে এগিয়ে নিতে চাই আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশকে।’

ইতিমধ্যে দেশের নানা রকম প্রযুক্তি উত্সবে বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছে ক্লাবটি। বাংলাদেশ আইসিটি ডিভিশন, টেন মিনিটস স্কুল সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলিও ক্লাবটির সাথে বিভিন্ন কর্মশালা করছে নিয়মিত। মজিলা কোড ডেভেলপার, ইউটিউব ইউআই ডিজাইনার সহ বিভিন্ন আন্ত্মর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানেও কাজের সুযোগ পাচ্ছে ক্লাবটির সদস্যরা। পাশাপাশি আরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও আইটি ক্লাব তৈরির বিষয়ে সাহায্য করছে এ ক্লাবের সদস্যরা।

তাই, আগামীর তথ্যপ্রযুক্তির পৃথিবীতে সবাইকে পথ দেখাতে এই আলোকবর্তিকা ক্লাবের এখন লক্ষ্য নতুন প্রজন্মেও জন্য এক নিরাপদ তথ্যপ্রযুক্তির জগত গড়ে তোলা।

মুল প্রকাশ: বিজ্ঞানচিন্তা, মার্চ,২০১৭

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s